নীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০১০

বুনো হাতির ট্রেন অবরোধ!

“বিড়ল প্রজাতির বিড়াল উদ্ধার”, “স্কুল ঘর থেকে বিষাক্ত সাপ উদ্ধার”, “মিড-ডে মিলের চাল খেয়ে গেল দাঁতাল হাতি”, “রাজ পথে বাইসন”, “লোকালয়ে পাইথন”, “বিড়ল প্রজাতির প্যাঁচা উদ্ধার করল স্থানিয় বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যরা”
আজকাল খবরের কাগজ খুললে প্রায় রোজই চোখে পরে এই ধরনের কিছু সংবাদ।  কখনো ভেবে দেখেছেন কি কেন এই হাতিরা মিড-ডে মিলের চাল খেতে স্কুলে আসে। এরা নিশ্চয় ছাত্র নয়  বা বিষাক্ত সাপেরাও নিশ্চয় ক্লাস করতে স্কুলে আসে না। তবে এরা বন থেকে বেড়িয়ে এলো কেন?
আসলে বন্যরা এখন আর বনে সুন্দর নেই। বনকে এখন তারা আর নিরাপদ স্থান বলে মনে করতে পারছে না। দিন দিন বন কমে আসছে, খাবারের প্রচণ্ড অভাব। তার ওপর চোরাশিকারীর অত্যাচার। গোদের ওপর বিষফোরের মতন এখন আবার এক নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ট্রেনে কাটা পরে হামেশাই বন্যপ্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে। সম্ভবত এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করতেই মঙ্গলবার রেল অবরোধ করল একটি হাতি। উত্তরবঙ্গ সংবাদের খবরটি এই রকম।
ডুয়ার্সের মধ্য দিয়ে যাওয়া রুটে মঙ্গলবার দফায় দফায় একাধিক ট্রেন অবরুদ্ধ হয়ে রইল একটি হাতির জন্য।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ডুয়ার্স হয়ে আলিপুরদুয়ার জংশনগামী রুটে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের কাছে বহু দরবার করা হয়েছে রাজ্যের বনদপ্তরের তরফে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কমিটি একাধিক সুপারিশও করেছে। কিন্তু কোনোটাই কার্যকর করা হয়নি। ফলে ট্রেনে কাটা পড়ে হাতি সহ অন্য বন্যপ্রাণীর মৃত্যুকেও আটকানো যায়নি। মঙ্গলবার সম্ভবত সেইসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাল একটি হাতি, রেল অবরোধ করে।
এদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়িগামী সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসের চালক সেবক স্টেশন পেরিয়ে আসার পর গুলমার কাছাকাছি রেললাইনের উপর একটি হাতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। দীর্ঘ হর্ণের আওয়াজ শুনে হাতিটি লাইন ছেড়ে পাশে সরে যায়। তবে তার আগে এক্সপ্রেস ট্রেনটি কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে। পরে হাতিটি লাইন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ট্রেনটি চলতে শুরু করলে হাতিটি ঘুরে দাঁড়িয়ে শুঁড় দিয়ে ইঞ্জিনে আঘাত করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেশ খানিকটা পথ দৌঁড়ায় হাতিটি। এবং শুঁড় দিয়ে ঘনঘন ট্রেনের কামরায় আঘাত করার চেষ্টা করে।
এরপর দুপুরে এবং বিকালে একটি মালগাড়ি এবং এনজেপি-আলিপুরদুয়ার প্যাসেঞ্জারেরও পথ অবরোধ করে হাতিটি। কিছুক্ষন অবরোধের পর অবশ্য লাইন ছেড়ে সরে যায় সে।
তবে কি মানুষের বনধ, অবরোধ সংস্কৃতি ছড়াল বন্যপ্রানীদের মধ্যেও?

সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০১০

কোহিনুর কি ফেরত আসবে?

কোহিনুর হিরে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ভারতের এই দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সৌজন্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির সাংসদ কিথ ভাজ। তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ভারতের সঙ্গে এই ইশুতে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন ক্যামেরন। এশীয় বংশোদ্ভূত হয়ে হাউস অফ কমনসে দীর্ঘদিনের সদস্য থাকার রেকর্ড করা কিথ ভাজ জানিয়েছেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কোহিনুর নিয়ে আলোচনা করার এটাই উপযুক্ত সময়। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্প্রর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চায় ব্রিটেন। কোহিনুর ফিরিয়ে দিলে ক্যামেরন শুধু প্রত্যেক ভারতবাসীর মন জয় করবেন তাই নয়, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কেরও নয়া দিগন্ত শুরু হবে। ব্রিটেনের নতুন জোট সরকারের গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে ভারতের সঙ্গে বিশেষ ‘সম্পর্ক’ গড়ে তোলা অন্যতম। তাই ক্যামেরনের সফরকে অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহল। ১৮৪৯-এ পাঞ্জাবের মহারাজ দলীপ সিংকে হারিয়ে এই অমুল্য হিরেটি হস্তগত করে ব্রিটিশ শাসক। তারপর এই ১৬১ টি বছর এই হিরে ব্রিটেনের রানির কুক্ষিগত হয়ে আছে।
(সৌজন্যেঃ উত্তরবঙ্গ সংবাদ )

বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০১০

হায় রে মাহুত বন্ধু!

সেদিন কাগজে একটি সংবাদ দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। সুজিত বিস্বকর্মা নামে একজন অস্থায়ী বন কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্থ করা হয়েছে। বরখাস্থের চিঠিতে লেখা আছে ‘সুজিত বিস্বকর্মা সংবাদ পত্রে বিবৃতি দিয়েছেন। এই ‘অপরাধে’ তাকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হল।‘
   
    এখন দেখতে হবে কে এই সুজিত বিস্বকর্মা। তিনি কি করতেন এবং তিনি কি বিবৃতি দিয়েছিলেন।

    সুজিত বিস্বকর্মা একজন মাহুত। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি অস্থায়ী বন কর্মী হিসেবে মাহুতের কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জলদাপাড়া উত্তর রেঞ্জের শিলতোর্ষা বিটে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঐ বিটের গর্ভবতী হাতি রঙিণীর মাহুত।

    তিনি বন্যপ্রাণ-৩ বিভাগের মেন্দাবাড়ি বিট থেকে গর্ভবতী রঙিণী হাতিটিকে নিয়ে গত ২৫ শে এপ্রিল শিলতোর্ষা বিটে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে প্রায়ই ১৬ মাসের গর্ভবতী হাতিকে দিয়ে বন রক্ষার কাজ করানো হত। বার বার বিশ্রামের কথা বলা সত্ত্বেও কেউ কর্ণপাত করেননি। এর পর একদিন তিনি একজন টি.ভি. সাংবাদিক কে বলেছিলেন “গর্ভবতী হাতিটিকে দিয়ে এখনো পরিশ্রম করানো হচ্ছে। জঙ্গল পাহাড়ার কাজে লাগানো হচ্ছে। ওর বিশ্রামের প্রয়োজন। কারন, বিশ্রাম না দিয়ে কাজ করানোয় গর্ভেই মারা গিয়েছিল ওর প্রথম সন্তান।“

    হায় রে মাহুত বন্ধু, বন কে ভালো বেসে, বন্য প্রাণী কে ভালো বেসে তুমি যে মানবিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে ছিলে, তোমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার কি যোগ্য দাম দিলো? বরঞ্চ তোমার চাকরিটাই কেড়ে নিল।

    আমি আগেই বলেছিলাম বনবিভাগের এক শ্রেণীর কর্মীদের জন্যই বন ও বন্যপ্রাণী ধংশ হয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০১০

নিজের ঢাক নিজেই পিটাই

  আমি শ্রী দেবাশিস গুহ, বর্তমানে বানারহাটের একটি চা বাগানে কাজ করলেও আমার জন্ম ও ছোটবেলা কাটে জলপাইগুড়িতে।
      অল্প বয়সে সবাই যখন আড্ডা মেরে বেড়ায়, আমি তখন জড়িয়ে পড়লাম এক আন্দোলনে। তবে তা বিজ্ঞান আন্দোলন। আমরা তিন বন্ধু মিলে (আমি, প্রসাদ রায় ও প্রবীর দাস) শ্রী পরিমল দে (খোকাদা)-এর সহযোগিতায় ১৯৮২ সালে গড়ে তুললাম ‘জলপাইগুড়ি সায়েন্স এ্যাণ্ড নেচার ক্লাব’। আমাদের যাত্রা শুরু কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত ‘সর্বভারতীয় বিজ্ঞান ক্লাব সন্মেলন’-এ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে।
       এর পর একে একে ক্লাবে যোগ দিলেন ডঃ বিমলেন্দু মজুমদার, ডঃ আনন্দ গোপাল ঘোষ, শ্রী প্রদীপ চক্রবর্ত্তী, শ্রী প্রদীপ সেনগুপ্ত, শ্রীমতি ইন্দীরা সেনগুপ্ত, অধ্যাপক পরেশ চক্রবর্ত্তী, ডাঃ মন্মথনাথ নন্দী, শ্রীমতি রত্না সেন রায়, ডঃ স্বপন সেনগুপ্ত, শ্রী অজিতবন্ধু ধর (তুলসী), শ্রী গৌতম ঘোষ, শ্রী দীপক দেব প্রমুখেরা।
      সেই সময় মাঝে মাঝে বেড়িয়ে পড়তাম বিভিন্ন ‘অ্যাডভেঞ্চারে’। কখনো ‘মানস’ অভয়ারণ্যে, কখনো বা বক্সার পাহাড়ে আবার কখনো বা জয়ন্তীতে, পূর্ণিমা রাতে নদীতে হাতি দেখতে।
      দূরে কোথাও যেতে না পারলে বেড়িয়ে পড়তাম কাছে পিঠেই। পূর্ণিমার রাতে বন্ধু প্রসাদ ও দীপকের সাথে হয়তো হেটেই ফেললাম দশ কিলোমিটার পথ। মনে পড়ে ক্লাবের সব ‘মেম্বার’দের নিয়ে জুবলী পার্কের ‘স্পারে’ বসে অনেক রাত পর্যন্ত ‘টেলিস্কোপ’ দিয়ে হ্যালীর ধুমকেতু দেখা। সাথে থাকতেন অধ্যাপক পরেশ চক্রবর্ত্তী। আজও স্যারের কথা খুব মনে পড়ে।
        এই ভাবে যখন গোটা উত্তরবাংলার জঙ্গল ঘুড়ে বেড়ানো হয়ে গেল। তখন বন্ধু প্রসাদ ও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সাইকেলে চড়ে বেড়িয়ে পড়লাম দিল্লির উদ্দ্যেশে। নালন্দা, রাজগির, গয়া, বুদ্ধগয়া, সাসারাম, বেনারস, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, লক্ষ্ণৌ, কানপুর, মথুরা, বিন্দাবন হয়ে পৌছালাম দিল্লিতে। সাইকেলে চড়ে বেড়ানোর নেশা মাথায় চড়ে বসলো। ঠিক করলাম আবার বেড়োতে হবে।
      যেমন কথা তেমন কাজ। আবার বেড়িয়ে পড়লাম ভূল্পালের পথে। তবে একটু ঘুর পথে। প্রথমে পূরী তারপর রায়পুর, আমার প্রিয় নেতা শঙ্কর গুহ নিয়োগীর দূর্গ, ভিলাই, নাগপুর হয়ে ‘গ্যাস ট্র্যাজেডির’ শহর ভূপাল।
      আজও চেষ্টা করি সময় পেলে সময় পেলে ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে পড়ার। তবে চেষ্টাই সার হয়। বেড়ানো আর হয়ে ওঠে না।



Related Posts with Thumbnails
কপিরাইট © দেবাশিস গুহ, দেবপাড়া চা বাগান, বানারহাট, জলপাইগুড়ি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.